ঢাকা কলেজ কোথায় অবস্থিত, ভর্তি যোগ্যতা, ভর্তি ফি, হোস্টেল সম্পর্কে জেনে নিন
ঢাকা কলেজ রাজধানীর মূল কেন্দ্রে অবস্থিত। এটি ১৮৪১ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়, অর্থাৎ ঢাকার ভেতরের কলেজগুলোর মধ্যে এটি সবচেয়ে পুরাতন-এর তালিকায় রয়েছে। এই কলেজের প্রশাসনিক ব্যক্তির সংখ্যা প্রায় ১৫০ জনেরও অধিক, এবং শিক্ষার্থীর সংখ্যা ১৭ হাজারেরও বেশি। সংক্ষেপে এই কলেজকে ডিসি কলেজ বলা হয়ে থাকে। এটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তর্ভুক্ত একটি প্রতিষ্ঠান।
আমাদের দেশের মধ্যে যতগুলো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। তার মধ্যে ঢাকা কলেজ অন্যতম বিখ্যাত একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। বাংলাদেশের অধিকাংশ শিক্ষার্থীদের রাজধানীর অক্সফোর্ড খ্যাত ঢাকা কলেজে পড়ার ইচ্ছা থাকে। তাই, এই কলেজে ভর্তির যোগ্যতা, ভর্তি ফি, হোস্টেল এবং এর অবস্থান সম্পর্কে জানতে বিভিন্ন ওয়েব সাইটে ঘাটাঘাটি করছেন। তাদের জন্য আমরা বিস্তারিত শেয়ার করব।
ঢাকা কলেজ কোথায় অবস্থিত
ঢাকা কলেজ হলো আমাদের রাজধানী ঢাকার প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত একটি অত্যন্ত ঐতিহ্যবাহী এবং প্রাচীন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। সহজভাবে বলতে গেলে, ঢাকা কলেজের স্থায়ী ঠিকানা হলো মিরপুর রোড, নিউ মার্কেট এলাকা, ঢাকা-১২০৫, বাংলাদেশ।
বিস্তারিত অবস্থান: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এর নিকট এবং ঢাকা নিউ মার্কেট এলাকার পাশে অবস্থিত এই ঢাকা কলেজ টি । এর সামনের রাস্তা টি মিরপুর রোড নামে পরিচিত। এই কলেজের উত্তর দিকে ধানমণ্ডি আবাসিক এলাকা। দক্ষিনে নিউ মার্কেট ও আজিম পুর এবং পশ্চিমে বি জি বি ( বি ডি আর) সদর দফতর আবস্থিত।
এক কথায়, এটি ঢাকার এমন একটা জায়গায় আছে যেখান থেকে সহজেই ঢাকা শহরের অন্য গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে যাওয়া যায়। এটি কেবল একটি কলেজ নয়, ঢাকার শিক্ষাব্যবস্থার এক ঐতিহাসিক মাইলফলক।
ঢাকা কলেজে ভর্তির যোগ্যতা
এই কলেজটি বাংলাদেশের প্রাণকেন্দ্র রাজধানী ঢাকায় অবস্থিত। অনেকের স্বপ্ন থাকে ঢাকা কলেজে পড়ার। তবে ঢাকা কলেজে শুধুমাত্র ছেলে শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা করতে পারবেন। ঢাকা কলেজে ভর্তি হতে চাইলে আপনাকে দুটি স্তরের জন্য আলাদা আলাদা যোগ্যতা পূরণ করতে হবে:
১। এইচএসসি ভর্তির যোগ্যতা
একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির জন্য আপনার এসএসসি বা সমমানের পরীক্ষায় প্রাপ্ত জিপিএ এবং মোট নম্বরের ওপর ভিত্তি করে মেধা তালিকা তৈরি হয়। ঢাকা কলেজের মতো ঐতিহ্যবাহী কলেজের জন্য জিপিএ-এর ন্যূনতম চাহিদা সাধারণত বেশ উঁচু থাকে।
| বিভাগ | নূন্যতম যোগ্যতা |
| বিজ্ঞান | ৫.০০ |
| বিজনেস স্টাডিজ | ৪.৭৫ |
| মানবিক | ৪.৫০ |
এটি কেবল আবেদনের ন্যূনতম যোগ্যতা। যেহেতু ঢাকা কলেজে আসন সংখ্যা সীমিত এবং আবেদনকারীর সংখ্যা বেশি, তাই শুধু ন্যূনতম জিপিএ থাকলেই ভর্তি নিশ্চিত হয় না। মূলত, জিপিএ ৫.০০ প্রাপ্তদের মধ্যে সর্বোচ্চ নম্বরধারীরাই বিজ্ঞানে ভর্তির সুযোগ পান।
কোনো ভর্তি পরীক্ষা হয় না, কেবল অনলাইনে আবেদন এবং মেধা তালিকা প্রকাশের মাধ্যমে ভর্তি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়।
২। অনার্স ভর্তির যোগ্যতা
ঢাকা কলেজে অনার্স কোর্সে ভর্তি হতে হলে আপনাকে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের (NU) নিয়ম অনুসরণ করতে হবে। এখানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত কলেজগুলোর মতো কোনো ভর্তি পরীক্ষা হয় না, বরং এসএসসি ও এইচএসসি-এর ফলের ভিত্তিতে মেধাতালিকা তৈরি হয়।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সাম্প্রতিক নীতিমালা অনুযায়ী, ঢাকা কলেজের মতো স্বনামধন্য সরকারি কলেজের জন্য যোগ্যতা সাধারণত নিম্নরূপ হয়:
- বিজ্ঞান বিভাগ থেকে সম্মিলিত জিপিএ ন্যূনতম ৭.০০ থেকে ৬.৫০ (এসএসসি ও এইচএসসি-তে আলাদাভাবে ন্যূনতম ৩.০০ থাকতে হবে)
- মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা থেকে সম্মিলিত জিপিএ ন্যূনতম ৬.৫০ থেকে ৬.০০ (এসএসসি ও এইচএসসি-তে আলাদাভাবে ন্যূনতম ২.৫০/৩.০০ থাকতে হবে)
আবেদনের জন্য এটা হলো জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ন্যূনতম শর্ত। কিন্তু ঢাকা কলেজের মতো সেরা সরকারি কলেজে চান্স পেতে হলে এই জিপিএর চেয়ে অনেক বেশি নম্বর বা উচ্চতর জিপিএ প্রয়োজন হয়। চূড়ান্তভাবে ভর্তি হওয়া নির্ভর করে আপনার এসএসসি ও এইচএসসি-এর ফলের ভিত্তিতে তৈরি হওয়া জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধা তালিকার ওপর।
ভর্তির আগে অবশ্যই ঢাকা কলেজ এবং জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে প্রকাশিত সর্বশেষ ভর্তি বিজ্ঞপ্তিটি ভালোভাবে দেখে নেবেন।
ঢাকা কলেজ ভর্তি ফি
ঢাকা কলেজ যেহেতু একটি সরকারি কলেজ, তাই এর ভর্তি ফি সাধারণত অন্যান্য বেসরকারি কলেজের তুলনায় অনেক কম হয়ে থাকে। তবে, ভর্তি খরচ দুটি স্তরের জন্য ভিন্ন হয়।
এখানে মানুষের মতো করে, সম্ভাব্য সর্বশেষ তথ্য এবং সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী খরচ কেমন হতে পারে, তার একটি ধারণা দেওয়া হলো:
১. এইচএসসিতে ভর্তির খরচ
এইচএসসিতে ঢাকা কলেজে ভর্তি হওয়ার খরচ প্রধানত দুই ভাগে বিভক্ত: বোর্ড কর্তৃক নির্ধারিত ফি এবং কলেজ কর্তৃক নির্ধারিত সেশন চার্জ ও অন্যান্য ফি।
| খরচের খাত | আনুমানিক পরিমাণ (সর্বশেষ নীতিমালা অনুযায়ী) | কী কারণে এই খরচ? |
| বোর্ড নিশ্চায়ন ও রেজিস্ট্রেশন ফি | প্রায় ৩৩৫ টাকা | নির্বাচিত হওয়ার পর অনলাইনে ভর্তি নিশ্চিত করা এবং শিক্ষা বোর্ড কর্তৃক রেজিস্ট্রেশন করার খরচ। |
| কলেজ কর্তৃক ভর্তি ও সেশন চার্জ (চূড়ান্ত ফি) | ৫,০০০ টাকা (সর্বোচ্চ সরকারি সীমা) | ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকার এমপিওভুক্ত সরকারি কলেজ হিসেবে এই ফি নির্ধারিত। এর মধ্যে উন্নয়ন ফি, সেশন চার্জ ইত্যাদি অন্তর্ভুক্ত থাকে। |
| মোট আনুমানিক খরচ | ৫,৩০০ থেকে ৫,৫০০ টাকা (কম-বেশি হতে পারে) | —- |
ঢাকা কলেজে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি হতে গেলে আপনার মোট খরচ সম্ভবত ৫,৫০০ টাকার আশেপাশে থাকবে।
২. অনার্স ভর্তির খরচ
ঢাকা কলেজ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত হওয়ায় অনার্স ভর্তির খরচ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম এবং কলেজ কর্তৃপক্ষের ধার্য করা ফি-এর ওপর নির্ভর করে। সরকারি কলেজ হওয়ায় এই খরচ বেসরকারি কলেজের তুলনায় অনেক কম হয়।
| খরচের খাত | আনুমানিক পরিমাণ | কী কারণে এই খরচ? |
| প্রাথমিক আবেদন ফি | ৮০০ টাকা (জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক নির্ধারিত) | ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য আবেদন করার সময় এই ফি লাগে। |
| চূড়ান্ত ভর্তি ও রেজিস্ট্রেশন ফি | ৩,০০০ থেকে ৪,০০০ টাকা (আনুমানিক | এই ফি-এর মধ্যে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রেশন ফি, কলেজ কর্তৃক সেশন চার্জ, লাইব্রেরি, সেমিনার ফি ইত্যাদি অন্তর্ভুক্ত থাকে। |
অনার্স কোর্সে ভর্তি নিশ্চিত করতে আপনার মোট খরচ সম্ভবত ৪,০০০ থেকে ৫,০০০ টাকার আশেপাশে থাকতে পারে।
ভর্তির খরচ প্রতি বছর নতুন বিজ্ঞপ্তিতে সামান্য পরিবর্তিত হতে পারে। সবচেয়ে সঠিক ও হালনাগাদ তথ্য জানতে, ভর্তির সময় ঢাকা কলেজের নিজস্ব ওয়েবসাইট অথবা নোটিশ বোর্ড থেকে প্রকাশিত অফিসিয়াল ভর্তি বিজ্ঞপ্তির দিকে নজর রাখুন।
ঢাকা কলেজে ভর্তি হওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র
ঢাকা কলেজে ভর্তি হওয়ার জন্য আপনি কোন স্তরে ভর্তি হচ্ছেন, তার উপর নির্ভর করে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের ধরন ভিন্ন হয়। নিচে এইচএসসি এবং অনার্স ভর্তির জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্রগুলো মানুষের মতো করে গুছিয়ে দেওয়া হলো:
১. এইচএসসিতে ভর্তির ক্ষেত্রে
আপনি যদি এসএসসি পাসের পর একাদশ শ্রেণিতে ঢাকা কলেজে ভর্তি হতে চান, তবে চূড়ান্ত ভর্তির সময় প্রধানত এই কাগজপত্রগুলো লাগবে:
- এসএসসির মূল মার্কশিট
- প্রশংসাপত্র
- এসএসসি পরীক্ষার প্রবেশপত্র ও রেজিস্ট্রেশন কার্ডের ফটোকপি
- শিক্ষার্থীর সদ্য তোলা পাসপোর্ট সাইজের ২ থেকে ৪ কপি রঙিন ছবি
- শিক্ষার্থীর জন্ম নিবন্ধন/জাতীয় পরিচয়পত্র সনদের ফটোকপি।
- বাবা-মা বা অভিভাবকের জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি।
- কোটার সনদ (যদি থাকে)
মনে রাখবেন ভর্তির আগে আপনাকে অনলাইনে নিশ্চায়ন ফি জমা দিতে হবে এবং সব কাগজেরই কয়েকটি ফটোকপি সত্যায়িত করে রাখতে হবে।
২. অনার্স ভর্তির ক্ষেত্রে
ঢাকা কলেজ যেহেতু জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত, তাই অনার্স কোর্সে ভর্তির জন্য আপনাকে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম অনুসরণ করতে হবে। ভর্তির জন্য মনোনীত হলে সাধারণত এই কাগজপত্রগুলো লাগবে:
- জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক প্রকাশিত চূড়ান্ত আবেদন ফরমের প্রিন্ট কপি।
- এসএসসি ও এইচএসসি-এর মূল নম্বরপত্র
- এসএসসি ও এইচএসসি-এর সনদপত্র/প্রশংসাপত্র
- এসএসসি ও এইচএসসি রেজিস্ট্রেশন কার্ডের ফটোকপি
- শিক্ষার্থীর পাসপোর্ট ও স্ট্যাম্প আকারের রঙিন ছবি।
- ভর্তির জন্য ব্যাংক বা মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে যে টাকা জমা দিয়েছেন, সেই রশিদের মূল কপি।
- কিছু ক্ষেত্রে সর্বশেষ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে নেওয়া চারিত্রিক সনদপত্র লাগতে পারে।
- এইচএসসি-এর মতো এখানেও কোটার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় মূল সনদপত্র ও গেজেট কপির সত্যায়িত ফটোকপি লাগবে।
ভর্তির সময় মূল একাডেমিক ট্রান্সক্রিপ্ট বা মার্কশিট কিন্তু অবশ্যই জমা দিতে হয়। তাই মূল কাগজপত্রগুলো খুব সাবধানে সঙ্গে রাখবেন। ভর্তির পূর্বে কলেজের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট বা নোটিশ বোর্ড থেকে সর্বশেষ ভর্তি বিজ্ঞপ্তি ও নির্দিষ্ট জিপিএ এবং কাগজপত্র সম্পর্কে নিশ্চিত হয়ে নেবেন।
অনার্স ভর্তির ক্ষেত্রে প্রতিটি কলেজের বিভাগ অনুযায়ী কাগজপত্রের সংখ্যা ও ধরন সামান্য ভিন্ন হতে পারে। তাই ভর্তির আগে অবশ্যই ঢাকা কলেজের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট বা নোটিশ বোর্ড থেকে সর্বশেষ ভর্তি বিজ্ঞপ্তিটি দেখে নিশ্চিত হয়ে নেবেন।
ঢাকা কলেজ এ ভর্তির আবেদন পদ্ধতি
ঢাকা কলেজে একাদশ শ্রেণিতে নতুন শিক্ষার্থীরা ভর্তি হবার জন্য আবেদন করতে পারবে দুই ভাবেঃ-
- এস এম এস (SMS) এর মাধ্যমে
- অনলাইনের (Online) মাধ্যমে
অনলাইনে আবেদন পদ্ধতি
অনলাইনে আবেদনের জন্য Website Address । এছাড়াও ভর্তি সংক্রান্ত যে কোন তথ্য সরকারি ঢাকা কলেজের ওয়েবসাইটে পেয়ে যাবেন খুব সহজেই।
এস এম এসের (SMS) মাধ্যমে আবেদন প্রক্রিয়া
SMS এর মাধ্যমে যেভাবে ভর্তির আবেদন করবেন:-
SMS এর মাধ্যমে আবেদন শুধুমাত্র টেলিটক প্রি-পেইড সংযোগ থেকে সর্বোচ্চ ১০টি কলেজে আবেদন করা যাবে। আবেদনের জন্য মোবাইলের মেসেজ অপশনে গিয়ে এভাবে টাইপ করতে হবেঃ-
CAD লিখে ভর্তিচ্ছু কলেজ/মাদ্রাসার EIIN নাম্বার। ভর্তিচ্ছু গ্রুপের নামের প্রথম দুই অক্ষর এসএসসি/সমমান পরীক্ষা পাসের বোর্ডের নামের প্রথম তিন অক্ষর, এসএসসি/সমমান পরীক্ষা পাসের রোল নম্বর , এসএসসি/সমমান পরীক্ষা পাসের সন এসএসসি/সমমান পরীক্ষা পাসের রেজিস্ট্রেশন নম্বর্র, ভর্তিচ্ছু শিফটের নাম ভার্সন কোটার নাম (যদি থাকে)। এরপর মেসেজটি সেন্ট করতে হবে ১৬২২২ নাম্বারে।
উদাহরণ : CAD 107977 SC DHA 401438 2019 111186009 M B FQ
- এখানে 696954- ভর্তিচ্ছু কলেজ/সমমান প্রতিষ্ঠানের EIIN
- SC- ভর্তিচ্ছু গ্রুপের নামের প্রথম দুই অক্ষর হলো: SC (Science)।
- DHA- প্রথম তিন অক্ষর এসএসসি/সমমান পরীক্ষা পাসের বোর্ডের নাম
- 123456- আবেদনকারীর এসএসসি/সমমান পরীক্ষা পাসের রোল নম্বর
- 2020- এসএসসি/সমমান পরীক্ষা পাসের সন
- 1212665968- আবেদনকারীর এসএসসি/সমমান পরীক্ষা পাসের রেজিস্ট্রেশন নম্বর
- M- শিফটের নামের প্রথম অক্ষর
- B- ভার্সন এর প্রথম অক্ষর
- FQ- মুক্তিযোদ্ধা কোটা।
ঢাকা কলেজ হোস্টেল
দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে আগত শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ার মান নিশ্চিত করার জন্য একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য উন্নত মানের আবাসন সুবিধা রয়েছে ।
যারা ছাত্রাবাসে থেকে লেখা পড়া করতে চায় তাদেরকে ভর্তি হবার পরে ছাত্রাবাস এর জন্য আবেদন করতে হয় ।নির্দিষ্ট শর্তপূরণ সাপেক্ষ এখানকার শিক্ষকদের তত্ত্বাবধানে আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সম্মিলিত ছাত্রাবাসে নামে মাত্র খরছে থাকার সুযোগ রয়েছে ।
১. ছাত্রাবাসসমূহের পরিচিতি ও সংখ্যা
ঢাকা কলেজের সুবিশাল ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের আবাসন নিশ্চিত করার জন্য ৮টি ছাত্রাবাস বা হল রয়েছে। এগুলো হলো:
- উত্তর ছাত্রাবাস
- দক্ষিণ ছাত্রাবাস
- পশ্চিম ছাত্রাবাস
- আন্তর্জাতিক ছাত্রাবাস
- আক্তারুজ্জামান ইলিয়াস ছাত্রাবাস
- শহীদ ফরহাদ হোসেন ছাত্রাবাস
- দক্ষিণায়ন ছাত্রাবাস
- শহীদ শেখ কামাল ছাত্রাবাস
২. আবাসন সুবিধা এবং বরাদ্দ প্রক্রিয়া
ঢাকা কলেজ কর্তৃপক্ষ সাধারণত মেধা ও দূরত্বের ভিত্তিতে শিক্ষার্থীদের হোস্টেল বা ছাত্রাবাসে আসন বরাদ্দ দিয়ে থাকে।
আসন সংখ্যা: যদিও মোট শিক্ষার্থীর তুলনায় আসন সংখ্যা কম, তবে অনার্স ও মাস্টার্সের শিক্ষার্থীদের জন্য আসন বরাদ্দকৃত। সাম্প্রতিক তথ্যমতে, অনার্স শিক্ষার্থীদের জন্য বরাদ্দকৃত আসন সংখ্যা ৮৫০টির বেশি। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্যও কিছু সিট বরাদ্দ দেওয়া হয়।
বরাদ্দের ভিত্তি: সিট বরাদ্দের ক্ষেত্রে মেধাবী এবং আর্থিকভাবে অস্বচ্ছল ছাত্ররা অগ্রাধিকার পেয়ে থাকেন। এছাড়া, সাধারণত কলেজ থেকে শিক্ষার্থীর বাসস্থানের দূরত্বের বিষয়টিও বিবেচনা করা হয়।
প্রক্রিয়া: সিট বরাদ্দের জন্য শিক্ষার্থীকে নির্ধারিত আবেদনপত্র সংগ্রহ করে জমা দিতে হয়। এরপর সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে চূড়ান্তভাবে নির্বাচন করা হয়।
৩. মাসিক খরচ ও সুবিধা
ঢাকা কলেজ একটি সরকারি প্রতিষ্ঠান হওয়ায় এখানে হোস্টেল খরচ বেসরকারি ছাত্রাবাসের তুলনায় অনেক কম।
- মাসিক খরচ: থাকা-খাওয়াসহ একজন শিক্ষার্থীর মাসিক খরচ সাধারণত ৩,০০০ থেকে ৪,০০০ টাকার মধ্যে হতে পারে যা বাজার দর ও ক্যান্টিনের খাবারের মানের ওপর নির্ভর করে পরিবর্তিত হয়। তবে, এই খরচ বাইরের মেস বা বাসস্থানের চেয়ে উল্লেখযোগ্যভাবে কম।
- রুমের ব্যবস্থা: সাধারণত প্রতি রুমে একাধিক যেমন ৪ জন বা তার বেশি শিক্ষার্থী একত্রে থাকেন।
- অন্যান্য সুবিধা: প্রতিটি ছাত্রাবাসে সাধারণত ডাইনিং হল, রিডিং রুম, মসজিদ এবং নিজস্ব প্রশাসন ব্যবস্থা থাকে।
ঢাকা কলেজ ছাত্রাবাস হলো সীমিত আসন বিশিষ্ট একটি সরকারি আবাসন সুবিধা, যা শিক্ষার্থীদের কম খরচে থাকা ও পড়ার সুযোগ করে দেয়। সিট পেতে হলে অবশ্যই ভালো ফল এবং কলেজের কঠোর নিয়মাবলী মেনে চলতে হবে।
ঢাকা কলেজ যোগাযোগ ঠিকানা
- ফোন: ০২- ৮৬১৮৩৫০, ৮৬১৮৭০৭, ৮৬৫২২২৩, ৮৫১১৩৫৪
- ই-মেইল: info@dhakacollege.edu.bd
- ওয়েবসাইট: http://www.dhakacollege.edu.bd
লেখকের শেষ মতামত
আশাকরি, আপনারা খুব সহজেই ঢাকা কলেজ কোথায় অবস্থিত, ভর্তি যোগ্যতা, ভর্তি ফি, হোস্টেল সম্পর্কে বিস্তারিত একটি ধারণা পেয়েছেন। আপনাদের যদি, আমাদের আজকের আর্টিকেলটি ভালো লাগে। তাহলে, আপনারা আপনাদের প্রিয় বন্ধু-বান্ধবের সাথে শেয়ার করুন।
কারণ, আপনি যেমন ঢাকা কলেজে ভর্তি হতে চান। তেমনি আপনার বন্ধুরা ও ঢাকা কলেজে ভর্তি হওয়ার ইচ্ছা থাকতে পারে। আপনি তার যোগ্যতা ও খরচ সম্পূর্কে ছোট্ট একটি ধারণা দেওয়ার জন্য আমাদের আর্টিকেলটি শেয়ার করতে পারেন। ধন্যবাদ।
