বিএনসিসি ভর্তি যোগ্যতা, সুবিধা, ভর্তি ফরম ২০২৫
বিএনসিসি হলো স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নিয়ে গঠিত একটি ত্রি-বাহিনী স্বেচ্ছাসেবী রিজার্ভ প্রতিরক্ষা শক্তি। এটি একটি আধা-সামরিক সংস্থা, যা মূলত দেশের যুব সমাজকে সামরিক প্রশিক্ষণ দিয়ে যোগ্য নাগরিক এবং নেতৃত্বের গুণাবলী সম্পন্ন ব্যক্তি হিসেবে গড়ে তোলার জন্য কাজ করে। তাই আমরা অনেকেই ত্রি-বাহিনী স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে বিএনসিসিতে ভর্তি হতে চাই।
তবে বিএনসিসি-তে নির্দিষ্ট ভর্তি যোগ্যতা থাকতে হবে, সেগুলো না থাকলে কখনোই ভর্তি হওয়া সম্ভব নয়। তো আপনারা যারা বিএনসিসিতে পড়তে চান, তারা নিচের অংশগুলো থেকে বিএনসিসি ভর্তি যোগ্যতা, বিএনসিসিতে পড়ার খরচ, ভর্তি ফরম সহ আরও বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় জেনে নিন।
বিএনসিসি ভর্তি যোগ্যতা
বিএনসিসি হলো স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নিয়ে গঠিত একটি স্বেচ্ছাসেবী প্রতিরক্ষা বাহিনী, যা সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমান বাহিনীর সমন্বয়ে গঠিত। এখানে একজন ক্যাডেট হিসেবে যোগ দেওয়ার যোগ্যতা ও প্রক্রিয়া অনেকটা সামরিক বাহিনীর মতোই সুশৃঙ্খল।
বিএনসিসি-তে ভর্তির যোগ্যতা নির্ভর করে আপনি কোন স্তরের জন্য আবেদন করছেন তার উপর, তবে সাধারণত প্রার্থীকে একজন সুস্থ, শারীরিক ও মানসিকভাবে সক্ষম ব্যক্তি হতে হবে।
বিএনসিসি ভর্তি শিক্ষাগত যোগ্যতা
বিএনসিসি-তে দুটি প্রধান বিভাগে ক্যাডেট নেওয়া হয়:
| বিভাগ | ক্যাডেটদের স্তর | শিক্ষাগত যোগ্যতা (সাধারণত) |
| জুনিয়র ডিভিশন | স্কুল পর্যায়ের ক্যাডেট | সাধারণত ষষ্ঠ বা অষ্টম শ্রেণি পাস হতে হয়। |
| সিনিয়র ডিভিশন | কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের ক্যাডেট | সাধারণত এসএসসি/এইচএসসি বা এর সমমান পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে। কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীরা ভর্তির জন্য আবেদন করতে পারে। |
অনেক ক্ষেত্রে, সিনিয়র ডিভিশনে ভর্তির জন্য এসএসসি/এইচএসসি-তে ন্যূনতম জিপিএ (যেমন ৩.০০) চাওয়া হতে পারে। আপনি যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়ছেন, সেখানে বিএনসিসি ইউনিট/প্লাটুন আছে কি না, তা জেনে নেওয়া সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
শারীরিক যোগ্যতা
বিএনসিসি-তে শারীরিক সক্ষমতার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। যদিও প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞপ্তিতে এই মাপে সামান্য পার্থক্য থাকতে পারে, তবে সাধারণভাবে নিচের মানদণ্ডগুলো অনুসরণ করা হয়:
| মানদণ্ড | পুরুষ ক্যাডেট (ন্যূনতম) | মহিলা ক্যাডেট (ন্যূনতম) |
| উচ্চতা | ৫ ফুট ২ ইঞ্চি বা ৫ ফুট ৫ ইঞ্চি | ৫ ফুট বা ৫ ফুট ২ ইঞ্চি (কলেজভেদে ভিন্ন হতে পারে) |
| ওজন | ৪৫ কেজি বা ১১০ পাউন্ড (উচ্চতার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ) | উচ্চতার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ |
| বুকের মাপ | স্বাভাবিক: ৩০ ইঞ্চি; প্রসারিত: ৩২ ইঞ্চি | পুরুষদের মতোই চাওয়া হয় (তবে মেয়েদের ক্ষেত্রে কম গুরুত্বপূর্ণ) |
| দৃষ্টিশক্তি | চশমা ছাড়া ৬/৬ চাওয়া হয়। | চশমা ছাড়া ৬/৬ চাওয়া হয়। |
বিশেষ দ্রষ্টব্য: প্রার্থীকে অবশ্যই শারীরিক ও মানসিকভাবে সম্পূর্ণ সুস্থ হতে হবে। কিছু ইউনিটে সাঁতার জানা আবশ্যক বলে বিবেচিত হয়।
বিএনসিসি ভর্তি বয়সসীমা
- বিএনসিসি-তে যোগদানের জন্য একটি নির্দিষ্ট বয়সসীমা নির্ধারণ করা আছে।
- সাধারণভাবে, ১৩ বছর থেকে ২৫ বছর বয়সের শিক্ষার্থীরা আবেদন করতে পারে।
- যদি কোনো শিক্ষার্থী পড়ালেখা চালিয়ে যায়, তবে সে ২৭ বছর বয়স পর্যন্ত ক্যাডেট হিসেবে থাকতে পারে।
৪. অন্যান্য যোগ্যতা ও অগ্রাধিকার
শারীরিক ও শিক্ষাগত যোগ্যতার পাশাপাশি কিছু গুণাবলী থাকলে ভর্তিতে অগ্রাধিকার পাওয়া যায়:
- বিএনসিসি-এর মূলমন্ত্র হলো “জ্ঞান ও শৃঙ্খলা”। তাই আবেদনকারীকে অবশ্যই অত্যন্ত শৃঙ্খলাপরায়ণ হতে হবে।
- সামরিক বাহিনীর মতো এখানেও উন্নত নৈতিক গুণাবলী সম্পন্ন প্রার্থী খোঁজা হয়।
অতিরিক্ত যোগ্যতা:
- পূর্বে জুনিয়র ডিভিশনে বিএনসিসি ক্যাডেট থাকলে।
- খেলাধুলা, বিতর্ক প্রতিযোগিতা বা সাংস্কৃতিক চর্চায় দক্ষতা থাকলে অগ্রাধিকার দেওয়া হতে পারে।
- ভালো ইংরেজি জ্ঞান থাকা অতিরিক্ত যোগ্যতা হিসেবে বিবেচিত হয়।
বিএনসিসি ভর্তি ফরম
আমরা এখানে বিএনসিসি এর অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে প্রকাশিত ভর্তি ফরম লিংক সহ উল্লেখ করে দিচ্ছি। যাতে আপনি অনলাইনে বিএনসিসি এর অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে একটি অ্যাকাউন্ট করে ভর্তি ফরম পূরণ করতে পারেন। এছাড়াও উক্ত ফরমে কি কি তথ্য প্রদান করতে তা সহজেই জেনে নিতে পারবেন। বিএনসিসি ভর্তি ফরম 👉 https://bncc.info/bn_IN/admission/apply.
বিএনসিসি ভর্তি প্রক্রিয়া ২০২৫
বিএনসিসি তে ভর্তি সাধারণত নিম্নোক্ত ধাপগুলো অনুসরণ করে সম্পন্ন হয়:
- বিজ্ঞপ্তি ও আবেদন: আপনার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বিএনসিসি ইউনিট বা প্লাটুনে নতুন ক্যাডেট ভর্তির বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ হলে আবেদন করতে হবে।
- প্রাথমিক বাছাই: শিক্ষাগত যোগ্যতা ও শারীরিক মাপ নেওয়া হয়।
- লিখিত পরীক্ষা (ঐচ্ছিক): অনেক সময় সাধারণ জ্ঞান, বুদ্ধিমত্তা (IQ) এবং সামরিক বিষয়ে একটি প্রাথমিক লিখিত পরীক্ষা নেওয়া হয়।
- মৌখিক পরীক্ষা ও শারীরিক কসরত: মৌখিক পরীক্ষার মাধ্যমে প্রার্থীর আগ্রহ, নেতৃত্ব গুণাবলী এবং মানসিক সক্ষমতা যাচাই করা হয়। পাশাপাশি দৌড়, বুকডন, লং জাম্পের মতো শারীরিক কসরতের পরীক্ষা নেওয়া হয়।
আবেদন প্রক্রিয়া:
- নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বিএনসিসি অফিস থেকে ভর্তি ফর্ম সংগ্রহ ও জমা দিতে হবে।
- প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং শারীরিক, মৌখিক ও লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে।
গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা: বিএনসিসি-তে ক্যাডেট মনোনয়নের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের সুপারিশ বা তদবির গ্রহণযোগ্য নয় এবং তা অযোগ্যতা হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। সমস্ত ক্ষমতা কর্তৃপক্ষ সংরক্ষণ করে।
বিএনসিসিতে পড়ার খরচ
বিএনসিসিতে পড়ার খরচ বলতে আসলে ক্যাডেটদের কোনো মাসিক টিউশন ফি দিতে হয় না। বরং, এতে যোগদানের খরচ খুবই সামান্য এবং এর বেশিরভাগ সুবিধা বিএনসিসি বা সরকারই বহন করে। খরচকে তিনটি প্রধান ভাগে ভাগ করে আলোচনা করা যেতে পারে:
১. ভর্তির প্রাথমিক খরচ
বিএনসিসিতে যোগদানের শুরুতে কিছু নগণ্য ফি লাগে, যা আপনার প্রতিষ্ঠানের ওপর নির্ভর করে।
যেমন শুরুতে বিএনসিসি সদর দপ্তরে প্রেরণের জন্য একটি নির্দিষ্ট অঙ্কের নিবন্ধন ফি সাধারণত ২৫০-৫০০ টাকা জমা দিতে হয়।
এই ফি আইডি কার্ড ও সনদপত্রের মতো দাপ্তরিক কাজের জন্য নেওয়া হয়। কোনো কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সামান্য মূল্যের বিনিময়ে ভর্তি ফরম বিক্রি করে। এই খরচটি একবারই লাগে।
২. পোশাক ও ব্যক্তিগত সরঞ্জাম
বিএনসিসির একটি বড় সুবিধা হলো, এর বেশিরভাগ পোশাক ও প্রশিক্ষণ সামগ্রী সাধারণত বিনামূল্যে সরবরাহ করা হয়।
- বিনামূল্যে সরবরাহ: ক্যাডেটদের মূল ইউনিফর্ম, বিশেষ করে ক্যাম্পের সময় পরিধানের জন্য প্রয়োজনীয় পোশাক, বিএনসিসি কর্তৃপক্ষ সরবরাহ করে।
- ব্যক্তিগত খরচ: কিছু ছোটখাটো ব্যক্তিগত সরঞ্জাম বা প্রশিক্ষণের জন্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র, যেমন সাদা কেডস, সাদা মোজা, ব্যক্তিগত পরিচর্যার জিনিসপত্র, এবং প্রাথমিক শার্ট-প্যান্টের মতো কিছু জিনিস ক্যাডেটকে নিজের খরচেই কিনতে হতে পারে। তবে এই খরচ খুবই কম।
৩. ক্যাম্পিং এবং প্রশিক্ষণ খরচ
প্রশিক্ষণ ও ক্যাম্পিংয়ের সময় ক্যাডেটদের কোনো খরচ করতে হয় না, বরং তারা উল্টো সুবিধা পায়ঃ
| সুবিধা | প্রকৃতি | ক্যাডেটের খরচ |
| ক্যাম্প ভাতা (দৈনিক) | থাকা, খাওয়া ও ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য দৈনিক ভাতা দেওয়া হয়। | নেই (বরং ক্যাডেটরা পায়) |
| থাকা ও খাবার | ক্যাম্পের সময় থাকা-খাওয়ার সম্পূর্ণ দায়িত্ব বিএনসিসি নেয়। | নেই |
| বিদেশ ভ্রমণ | আন্তর্জাতিক যুব বিনিময় কর্মসূচির (YEP) খরচ সরকার বহন করে। | নেই |
বিএনসিসি-তে যুক্ত হওয়ার খরচ খুবই সামান্য, যা মূলত ভর্তির রেজিস্ট্রেশন ফি এবং কিছু ব্যক্তিগত পোশাক বা জুতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ।
এটি মূলত একটি বিনামূল্যের প্রশিক্ষণমূলক কার্যক্রম, যেখানে সরকার বা বিএনসিসিই উল্টো ক্যাডেটদের থাকা, খাওয়া ও যাতায়াতের খরচ বহন করে তাদের সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে সহায়তা করে। আর্থিক লাভের চেয়ে জ্ঞান, শৃঙ্খলা ও দেশপ্রেম অর্জনই এখানে মুখ্য।
বিএনসিসি এর সুবিধা
বিএনসিসিতে যোগদানের সুবিধাগুলির মধ্যে রয়েছে সামরিক বাহিনীর জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণ ও সুবিধা, শারীরিক ও মানসিক বিকাশের সুযোগ, দেশের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করার সুযোগ এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রতিনিধিত্বের সুযোগ। যারা বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী বা বিমান বাহিনীতে যোগ দিতে চান, তাদের জন্য বিএনসিসি ক্যাডেটরা নিয়োগ প্রক্রিয়ায় বিশেষ সুবিধা পেয়ে থাকে।
বিএনসিসি-এ যুক্ত হওয়ার অনেকগুলো সুবিধা আছে, যা একজন শিক্ষার্থীর ব্যক্তিগত জীবন ও ভবিষ্যৎ পেশা উভয় ক্ষেত্রেই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এখানে মানুষের মতো করে সেই সুবিধাগুলো বিস্তারিত আলোচনা করা হলো:
সামরিক বাহিনীতে যোগদানের ক্ষেত্রে বিশেষ সুবিধা
বিএনসিসি ক্যাডেটদের জন্য এটি সবচেয়ে বড় সুবিধা। সামরিক প্রশিক্ষণ নেওয়ার কারণে তারা দেশের সশস্ত্র বাহিনীতে যোগদানের ক্ষেত্রে অন্যদের চেয়ে এগিয়ে থাকে:
- সরাসরি আইএসএসবি-তে সুযোগ: ক্যাডেটরা সশস্ত্র বাহিনীর কর্মকর্তা পদে যোগদানের জন্য সরাসরি ইন্টার সার্ভিসেস সিলেকশন বোর্ড পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ পান। এর ফলে, সাধারণ শিক্ষার্থীদের মতো তাদের অনেকগুলো প্রাথমিক ধাপ পার হতে হয় না।
- সৈনিক পদে সংরক্ষিত আসন: প্রতি বছর বিএনসিসি ক্যাডেটদের জন্য সেনাবাহিনীতে সৈনিক পদে ন্যূনতম ৪০০টি পদ সংরক্ষিত থাকে।
- নিয়োগে অগ্রাধিকার: সামরিক প্রশিক্ষণের অভিজ্ঞতা এবং শৃঙ্খলার কারণে সশস্ত্র বাহিনীসহ অন্যান্য সরকারি চাকরিতেও ক্যাডেটরা বিশেষ অগ্রাধিকার পেয়ে থাকেন।
ব্যক্তিগত দক্ষতা ও চরিত্র গঠন
বিএনসিসি’র প্রশিক্ষণ একজন ক্যাডেটের ভেতরের মানুষটিকে বদলে দেয়। নিয়মিত প্যারেড, ক্যাম্পিং এবং বিভিন্ন দলগত কাজের মাধ্যমে ক্যাডেটরা নেতৃত্ব দেওয়ার গুণাবলী অর্জন করে। তারা দায়িত্ব নেওয়া এবং কঠিন পরিস্থিতিতে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে শেখে।
সামরিক শৃঙ্খলার কঠোরতা ক্যাডেটদের মধ্যে সময়ানুবর্তিতা, দায়িত্ববোধ এবং নিয়মানুবর্তিতা তৈরি করে, যা তাদের পুরো জীবনের জন্য একটি বড় সম্পদ। আবার সামরিক প্রশিক্ষণ, ফিল্ড ক্র্যাফট এবং ক্ষুদ্রাস্ত্র প্রশিক্ষণের মাধ্যমে ক্যাডেটরা শারীরিক ও মানসিকভাবে অনেক শক্তিশালী ও আত্মবিশ্বাসী হয়ে ওঠে।
শিক্ষাজীবনে বাড়তি সুযোগ ও প্রণোদনা
ভালো ফলাফলধারী মেধাবী ক্যাডেটদের জন্য বিএনসিসি থেকে বার্ষিক উপবৃত্তি বা স্কলারশিপের ব্যবস্থা থাকে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো কিছু প্রতিষ্ঠানে সামরিক বিজ্ঞান সার্টিফিকেট কোর্সে অংশগ্রহণের সুযোগ থাকে এবং এই কোর্সে প্রাপ্ত নম্বরের ভিত্তিতে ক্যাডেটদের মূল ডিগ্রি পরীক্ষার মোট নম্বরের সঙ্গে অতিরিক্ত নম্বর যোগ হয়, যা তাদের ফলাফলে এগিয়ে যেতে সাহায্য করে।
বিনামূল্যে কম্পিউটার ও ইংরেজি ভাষার মতো আধুনিক বিষয়ে প্রশিক্ষণের সুযোগ দেওয়া হয়।
দেশ-বিদেশে ভ্রমণের সুযোগ
ক্যাডেটরা বিভিন্ন আন্তর্জাতিক কর্মসূচিতে দেশের প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ পায়। সরকারি ব্যবস্থাপনায় বিএনসিসি ক্যাডেটরা ভারত, শ্রীলঙ্কা, মালদ্বীপ এবং সিঙ্গাপুরের মতো বিভিন্ন বিদেশ ভ্রমণ করে অন্য দেশের ক্যাডেটদের সাথে সংস্কৃতি বিনিময়ের সুযোগ পান। এছাড়াও প্রশিক্ষণের অংশ হিসেবে দেশের বিভিন্ন ঐতিহাসিক স্থান ও গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটি ঘুরে দেখার সুযোগ পাওয়া যায়।
সামাজিক ও জাতীয় সেবার সুযোগ
প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা জাতীয় যেকোনো জরুরি পরিস্থিতিতে ক্যাডেটরা সুশৃঙ্খল স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে মানুষের সেবায় নিয়োজিত হয়। সমাজসেবা হিসেবে যেমন বৃক্ষরোপণ, রক্তদান, মাদকবিরোধী প্রচারণাসহ বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের মাধ্যমে তারা সামাজিক দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা অর্জন করে।
আবার কিছু ক্ষেত্রে বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস পরীক্ষায় ক্যাডেটদের জন্য অতিরিক্ত নম্বর বা কোটার সুবিধা থাকে। বিএনসিসি শুধু একটি প্রশিক্ষণ নয়, এটি হলো জ্ঞান, শৃঙ্খলা ও দেশপ্রেমের একটি পূর্ণাঙ্গ প্যাকেজ, যা একজন শিক্ষার্থীকে কর্মজীবনের জন্য প্রস্তুত করার পাশাপাশি একজন দায়িত্বশীল ও যোগ্য মানুষ হিসেবে গড়ে তোলে।
সাধারণ প্রশ্ন ও উত্তর (FAQs)
বিএনসিসি এর প্রধান কে?
বিএনসিসির প্রধান হলেন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবু সঈদ আল মসউদ। তিনি বিএনসিসি অধিদপ্তরের মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
বিএনসিসি এর প্রতিষ্ঠাতা কে?
বিএনসিসির প্রতিষ্ঠাতা হলেন তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান।
বিএনসিসি কত সালে গঠিত হয়?
বিএনসিসি ২৩ মার্চ ১৯৭৯ সালে গঠিত হয়। তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান একটি সরকারি আদেশের মাধ্যমে এই সংগঠনটি প্রতিষ্ঠা করেন।
বিএনসিসি সদর দপ্তর কোথায়?
বিএনসিসি এর সদর দপ্তর ঢাকার উত্তরা ৬ নম্বর সেক্টরে অবস্থিত। এটি বাংলাদেশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে থাকা বিএনসিসি অধিদপ্তরের প্রধান কার্যালয়।
বিএনসিসিতে সিইউও কি?
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কন্টিনজেন্টের বিএনসিসি আর্মি উইংয়ের মেসবাহুর রহমানকে রমনা রেজিমেন্টের ১ম ব্যাটালিয়নের আলফা কোম্পানির ক্যাডেট আন্ডার অফিসার (সিইউও) পদে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে।
BNCC কি সরকারি?
হ্যাঁ, বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর বা বিএনসিসি একটি সরকারি সংস্থা। এটি বাংলাদেশ সরকারের অধীনে পরিচালিত হয় এবং এটি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সাথে সংযুক্ত একটি সংগঠন।
বিএনসিসি রেজিমেন্ট কয়টি?
বিএনসিসিতে (বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর) ৫টি আর্মি উইং রেজিমেন্ট রয়েছে: রমনা, কর্ণফুলী, ময়নামতি, মহাস্থানগড় এবং সুন্দরবন রেজিমেন্ট। এই পাঁচটি রেজিমেন্ট সমগ্র বাংলাদেশে অবস্থিত বিভিন্ন স্কুল, কলেজ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে কার্যক্রম পরিচালনা করে।
- রমনা রেজিমেন্ট: ঢাকাতে অবস্থিত।
- কর্ণফুলী রেজিমেন্ট: চট্টগ্রামে অবস্থিত।
- ময়নামতি রেজিমেন্ট: কুমিল্লাতে অবস্থিত।
- মহাস্থানগড় রেজিমেন্ট: রাজশাহীতে অবস্থিত।
- সুন্দরবন রেজিমেন্ট: খুলনায় অবস্থিত।
বিএনসিসি মূলত তরুণদের জন্য একটি সুযোগ, কোনো চাকরি নয়। তাই, ভর্তি হওয়ার জন্য আপনার শিক্ষাগত যোগ্যতা এবং সামরিক প্রশিক্ষণের জন্য প্রয়োজনীয় ন্যূনতম শারীরিক সক্ষমতা থাকলেই আপনি আবেদন করতে পারবেন। আপনার প্রতিষ্ঠানের বিএনসিসি প্লাটুনের সাথে সরাসরি যোগাযোগ করাই সর্বশেষ ও সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়ার উপায়।
