আল আজহার বিশ্ববিদ্যালয়

আল আজহার বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি যোগ্যতা, পড়ার খরচ, কোথায় অবস্থিত

আল আজহার বিশ্ববিদ্যালয় বিশ্বের প্রাচীনতম এবং সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়গুলির মধ্যে একটি, যেটি মিশরের কায়রোতে অবস্থিত। বাংলাদেশের অনেকে ইতিমধ্যেই ইসলামিক স্টাডিজ, আরবি ভাষা এবং অন্যান্য বিষয়ে মানসম্পন্ন শিক্ষা অর্জনের জন্য এই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতি ঝুঁকছেন।

মিশরের কায়রো শহরে অবস্থিত আল আজহার বিশ্ববিদ্যালয় যারা ইসলাম বা আরবি শিক্ষা নিয়ে পড়ালেখা করে জ্ঞান অর্জন করতে চান, তাদের জন্য এটি সেরা বিশ্ববিদ্যালয়। তবে আল আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ে নির্দিষ্ট ভর্তি যোগ্যতা থাকতে হবে, সেগুলো না থাকলে কখনোই ভর্তি হওয়া সম্ভব নয়।

তো আপনারা যারা আল আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে চান, তারা নিচের অংশগুলো থেকে আল আজহার বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি যোগ্যতা, আল আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার খরচ, আল আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ে স্কলারশিপ সহ আরও বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় জেনে নিন।

আল আজহার বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি যোগ্যতা

আল আজহার বিশ্ববিদ্যালয় একটি ইসলামিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এই বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার জন্য বেশ কিছু যোগ্যতার প্রয়োজন, যেগুলোর মধ্যে থাকলে এই বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়া যাবে এবং লেখাপড়া করা যাবে। এই বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার জন্য যেসব যোগ্যতা থাকা প্রয়োজন, সেগুলো হলো:

  • শিক্ষাগত যোগ্যতা: ন্যূনতম মাধ্যমিক বা সমমান পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে।
  • ইসলামী জ্ঞান: ইসলামী স্টাডিজ বিষয়ে ভালো জ্ঞান থাকতে হবে।
  • আরবি দক্ষতা: আরবি ভাষায় ভালো দক্ষতা এবং আরবিতে লেখালেখি করার সক্ষমতা থাকতে হবে।
  • বয়স সীমা: আবেদনকারীর বয়স ১৮ বছরের বেশি হতে হবে।
  • কুরআন জ্ঞান: কোরআন সম্পর্কে ভালো জ্ঞান থাকতে হবে।
  • চরিত্র: অবশ্যই সুস্থ ও ভালো চরিত্রের অধিকারী হতে হবে।
  • ভর্তি প্রক্রিয়া: ভর্তি হওয়ার জন্য ভর্তি পরীক্ষা বা সাক্ষাৎকার দিতে হতে পারে।

যে শিক্ষার্থীর মধ্যে এই সকল যোগ্যতা থাকবে, সেই শিক্ষার্থী আল আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার জন্য আবেদন করতে পারবে। এছাড়াও আরও বেশ কিছু যোগ্যতার প্রয়োজন হতে পারে, তাই ভর্তি হওয়ার আগে সরাসরি তাদের সাথে কথা বলে জেনে নিতে হবে।

আল আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার খরচ

আল আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ে দুইভাবে পড়াশোনা করা যায় একটি হলো স্কলারশিপের মাধ্যমে এবং আরেকটি হলো সম্পূর্ণ নিজ খরচে। যদি স্কলারশিপের মাধ্যমে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পাওয়া যায়, তাহলে খরচ অনেকটা কম লাগবে, আর যদি সম্পূর্ণ নিজ খরচে ভর্তি হওয়া হয়, তাহলে খরচ বেশি লাগবে।

আল আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ে যদি স্কলারশিপের মাধ্যমে পড়ার সুযোগ হয়, তাহলে সব খরচ সরকার বহন করবে। তবুও, প্রতিমাসে ১২ থেকে ১৫ হাজার টাকা খরচ হতে পারে। এটা সম্পূর্ণ নির্ভর করবে আপনি কিভাবে খরচ করছেন বা কিভাবে চলাফেরা করছেন তার ওপর।

আর যদি স্কলারশিপের মাধ্যমে পড়ার সুযোগ না পান, তাহলে খরচ একটু বেশি পড়বে। তবে বাংলাদেশের অন্যান্য প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ভর্তি ফি, টিউশন ফি, থাকা-খাওয়া এবং হাত খরচ সহ অনেক টাকা লেগে যায়। সেই তুলনায় আল আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ে সকল খরচ সহ আনুমানিক ৭ থেকে ৮ লক্ষ টাকার মতো লাগতে পারে।

খরচের দিক দিয়ে যদি প্রয়োজনের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেন, তাহলে কিছুটা কম টাকা লাগবে। তবে এখানে যে টাকার পরিমাণ বলা হয়েছে, তা নির্দিষ্ট নয় শুধুমাত্র আপনাদের ধারণা দেওয়ার জন্য এই পরিমাণটি বলা হলো। তবে হ্যাঁ, অন্যান্য প্রাইভেট ইউনিভার্সিটিতে যে পরিমাণ খরচ হয়, সেটার তুলনায় এখানে কম খরচ হয়ে থাকে।

আল আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ের টিউশন ফি

শুরুতে আলোচনা করা যাক আল আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ের টিউশন ফি সম্পর্কে। গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ে টিউশন ফি অন্যান্য আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয় বা প্রতিষ্ঠানের তুলনায় তুলনামূলকভাবে অনেকটাই কম। যারা কম খরচে পড়াশোনা করতে চাচ্ছেন, তারা এই আল আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ে নিজেদের পছন্দের ডিগ্রিটি বেছে নিতে পারেন।

মূলত স্নাতক পর্যায়ের বিভিন্ন কোর্স এবং অনুষদের ওপর নির্ভর করে বার্ষিক টিউশন ফি ধরা হয় আনুমানিক ২০ হাজার টাকা থেকে শুরু করে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত। অন্যদিকে, স্নাতকোত্তর প্রোগ্রামের জন্য, ফি সামান্য বেশি হতে পারে। এক্ষেত্রে প্রতি বছর লাগতে পারে ৩০ হাজার টাকা থেকে শুরু করে ৬০ হাজার টাকা পর্যন্ত।

আল আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ের জীবনযাত্রার খরচ

আল আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় জীবনযাত্রার খরচ কত পড়বে, তা নির্ভর করবে আপনি কীভাবে চলছেন তার উপর! তবে কায়রোতে থেকে এখানে পড়াশোনা করা বাংলাদেশী শিক্ষার্থীদের জন্য তুলনামূলকভাবে অনেকটা কম খরচের। এক্ষেত্রে মাসিক ৩০ হাজার টাকা থেকে শুরু করে ৬০ হাজার টাকার মতো লাগতে পারে। বিশেষ করে:

  • আবাসনের খরচ: ক্যাম্পাসের হোস্টেলে খরচ পড়তে পারে ৫ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা। আবার, ক্যাম্পাসের বাইরে শেয়ার্ড অ্যাপার্টমেন্টের খরচ হিসাবে প্রতি মাসে লাগতে পারে ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা।
  • খাবারের খরচ: খাবারের জন্য মাসে কমপক্ষে ১০ হাজার টাকা বাজেট করতেই হবে।
  • পরিবহনের খরচ: যেহেতু কায়রোতে গাড়ি ভাড়া কম, সেহেতু পরিবহনের খরচ হিসাবে লাগবে মাত্র ২ থেকে ৪ হাজার টাকা।
  • অতিরিক্ত খরচ: বই, পোশাক এবং বিনোদন সহ অতিরিক্ত খরচ হিসেবে প্রতি মাসে ৫ থেকে ১০ হাজার টাকা বাজেট রাখতে পারেন।

জেনে নিনঃ ঢাকা কলেজ কোথায় অবস্থিত, ভর্তি যোগ্যতা

আল আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্তর্জাতিক ছাত্রদের জন্য খরচ

টিউশন ফি ছাড়াও, বাংলাদেশ থেকে আসা আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের আরও বিভিন্ন ধরনের খরচের বিষয়ে ধারণা থাকা প্রয়োজন। যেমন:

রেজিস্ট্রেশন ফি

আল আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির পর, শিক্ষার্থীদের প্রায় ৫ হাজার টাকা প্রাথমিক রেজিস্ট্রেশন ফি দিতে হয়। এই ফি প্রশাসনিক খরচ কভার করার জন্য ব্যবহৃত হয় এবং এটি সাধারণত কর্তৃপক্ষকে এককালীন খরচ হিসেবে দিতে হয়।

বই এবং অন্যান্য জিনিসপত্র 

এরপর বইপত্র ও অন্যান্য শিক্ষাসামগ্রী নিয়ে ভাবা প্রয়োজন। এই খাতে, পাঠ্যবই, নোটবই এবং অন্যান্য একাডেমিক উপকরণের জন্য শিক্ষার্থীদের বছরে আনুমানিক ১০ হাজার থেকে ১৫ হাজার টাকা বাজেট রাখা উচিত। তবে, মনে রাখবেন, এই খরচটি কোর্স এবং প্রতি সেমিস্টারের নির্দিষ্ট চাহিদা অনুযায়ী কমবেশি হতে পারে।

চিকিৎসা খরচ

আল আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির পর প্রতিটি শিক্ষার্থীর জন্য স্বাস্থ্য বীমা করানো বাধ্যতামূলক। অসুস্থতা বা জরুরি অবস্থায় দ্রুত চিকিৎসা নিশ্চিত করার জন্যই এটি প্রয়োজন। এই চিকিৎসা বীমার জন্য বছরে আনুমানিক ৫ হাজার টাকা বাজেট রাখতে হবে। এই বীমার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা পরবর্তীতে প্রাথমিক চিকিৎসা পরামর্শ, চিকিৎসা এবং জরুরি সেবা গ্রহণ করতে পারবে।

স্কলারশিপ

আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয় আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য বিভিন্ন স্কলারশিপ প্রদান করে থাকে, যার মধ্যে বাংলাদেশীদের জন্যও বেশ কিছু সুযোগ রয়েছে। এই স্কলারশিপগুলো সাধারণত শিক্ষার্থীর শিক্ষাগত মান এবং আর্থিক প্রয়োজনের ভিত্তিতে দেওয়া হয়। এসব বৃত্তি পেলে টিউশন ফি এবং কখনও কখনও জীবনযাত্রার খরচও উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসে।

আল আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ে স্কলারশিপ ২০২৫

আল আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ে স্কলারশিপ নিয়ে পড়ালেখা করার সুযোগ আছে। একটি নির্দিষ্ট সময় অন্তর এই স্কলারশিপে ভর্তির বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। ভর্তি হওয়ার আগে জেনে নিন, এই বৃত্তির মাধ্যমে সুযোগ পেলে শিক্ষার্থীরা ঠিক কী কী সুবিধা লাভ করবে।

স্কলারশিপ পাওয়ার সুযোগ সুবিধা

  • ভর্তি হওয়ার জন্য কোন ফি দিতে হবে না।
  • থাকা ও খাওয়া ফ্রি
  • ভিসা ও বিমান টিকেট এর সুবিধা।
  • কোন টিউশন ফি দিতে হবে না।

ক্যাম্পাসের ভেতরে অবস্থান করলে ১৫০০ পাউন্ড এবং ক্যাম্পাসের বাইরে থাকলে ২৫০০ পাউন্ড (মাসিক) খরচ দেওয়া হবে। 

স্কলারশিপের জন্য আবেদন করতে হলে আপনাকে অনলাইনে একটি ফরম পূরণ করে জমা দিতে হবে। অনলাইন ফরম পূরণের জন্য কিছু নির্দিষ্ট ডকুমেন্ট বা কাগজপত্র প্রয়োজন হবে, সেগুলো হলো:

  • শিক্ষার্থীর জন্ম সনদ
  • জাতীয় পরিচয় পত্র এর কপি
  • দাখিল এবং আলিম এর মার্কশিট ও সার্টিফিকেট
  • পাসপোর্ট কপি
  • মেডিকেল সার্টিফিকেট
  • পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট
  • বসবাসের ঠিকানা তথ্য
  • সদ্য তোলা ৬ কপি ছবি
  • শিক্ষার্থীর জিমেইল আইডি
  • একটি সচল মোবাইল নাম্বার
  • আরবি ভাষা শিক্ষা কোর্স সার্টিফিকেট

আল আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কলারশিপ বিজ্ঞপ্তিতে একটি নির্দিষ্ট ঠিকানা উল্লেখ থাকবে, যেখানে আপনাকে প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টগুলো জমা দিতে হবে। তবে তার আগে অনলাইনে আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। অনলাইনে কীভাবে আবেদন করবেন, তা নিচে জেনে নিন:

প্রথমে আপনাকে গুগল ব্যবহার করে http://202.4.112.150:3030 এই ওয়েবসাইটে প্রবেশ করতে হবে। এরপর সেখানে একটি অ্যাকাউন্ট রেজিস্ট্রেশন করতে হবে। রেজিস্ট্রেশন শেষ হলে একটি প্রোফাইল তৈরি হবে, যেখানে আপনাকে প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে প্রোফাইলটি সম্পূর্ণ করতে হবে।

প্রোফাইলটি পুরোপুরি তৈরি হয়ে গেলে, আপনাকে ‘Circular List’ অপশনে যেতে হবে এবং নির্দিষ্ট সার্কুলারটি নির্বাচন করতে হবে। এরপর সেখানে ‘Apply’ নামে একটি অপশন আসবে, যেখানে ক্লিক করলে আবেদন ফরমটি চলে আসবে। এই আবেদন ফরমে বিজ্ঞপ্তিতে চাওয়া সকল তথ্য সঠিকভাবে পূরণ করতে হবে।

আবেদন ফরমের সব তথ্য সঠিকভাবে দেওয়া হলে এবং সবকিছু ঠিক থাকলে, সবশেষে ‘Apply’ বাটনে চাপ দিতে হবে, তাহলে আপনার অনলাইন আবেদন সম্পন্ন হবে। অনলাইনে আবেদন প্রক্রিয়া শেষ হলে, পূর্বে বলা ডকুমেন্টগুলো বিজ্ঞপ্তিতে দেওয়া নির্দিষ্ট ঠিকানায় জমা দিতে হবে। এভাবেই আপনি আল আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ে স্কলারশিপের সুযোগ পেতে পারেন।

আল আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবজেক্ট কি কি

আল আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ে অনেকগুলো সাবজেক্ট পড়ানো হয়। নিচে আল আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ের সেই বিষয়গুলোর তালিকা দেওয়া হলো:

  • কুরআন শিক্ষা
  • ইসলামী আইন শিক্ষা
  • যুক্তিবিদ্যা
  • চিকিৎসা
  • বিজ্ঞান
  • ইংরেজি
  • ভাষা ও মানবিকতা
  • ব্যবসায় প্রশাসন
  • কৃষি শিক্ষা
  • তথ্য ও প্রযুক্তি।  

এছাড়াও আল আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ে আরও অনেক বিষয়ে পাঠদান করা হয়। মোটকথা, এই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একজন শিক্ষার্থী ইহকাল ও পরকালের জীবন সম্পর্কে জানার এবং শেখার সুযোগ লাভ করবে।

আল আজহার বিশ্ববিদ্যালয় কোথায় অবস্থিত

আল আজহার বিশ্ববিদ্যালয় হলো মিশরের কায়রো শহরে অবস্থিত একটি অন্যতম সেরা ইসলামিক বিশ্ববিদ্যালয়। এটি শুধু মিশরেরই নয়, এটি বিশ্বের অন্যতম পুরাতন ইসলামিক ডিগ্রি প্রদানকারী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ থেকে অসংখ্য শিক্ষার্থী এই বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ালেখা করার জন্য ভর্তি হতে আসে।

আল আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট কোনটি

আল আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি নিজস্ব অফিসিয়াল ওয়েবসাইট রয়েছে। এই ওয়েবসাইটে ভর্তি, স্কলারশিপ ও অন্যান্য সব ধরনের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। তাই একজন শিক্ষার্থীর জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের এই অফিশিয়াল ওয়েবসাইটের ঠিকানা জানা খুবই জরুরি। আল আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিশিয়াল ওয়েবসাইটের ঠিকানা হলো: https://azhar.edu.eg/ ।

আল আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ের হোস্টেল সুবিধা

আল আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের জন্য বেশ উন্নতমানের হোস্টেল সুবিধা রয়েছে। যেমন:

বিশ্ববিদ্যালয়ের হোস্টেলগুলো শিক্ষার্থীদের জন্য শেয়ার্ড রুমের ব্যবস্থা করে। সাধারণত প্রতিটি কক্ষে ২ থেকে ৪ জন ছাত্রের থাকার ব্যবস্থা থাকে এবং কক্ষগুলোতে বিছানা, ডেস্ক ও ওয়ারড্রোবের মতো মৌলিক প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র দিয়ে সাজানো থাকে।

হোস্টেলগুলোতে দরকারি সব সাধারণ সুবিধা পাওয়া যায়। এর মধ্যে রয়েছে স্টাডি রুম, লাইব্রেরি, ডাইনিং এরিয়া, বিনোদনের জন্য কক্ষ এবং Wi-Fi সুবিধা। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ শিক্ষার্থীদের জন্য দিনরাত ২৪ ঘণ্টাই নিরাপত্তা নিশ্চিত করে।

আল আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক ব্যাবস্থা কেমন?

শিক্ষার্থীদের পড়ালেখা এবং ব্যক্তিগত প্রয়োজনকে গুরুত্ব দিয়ে আল আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক ব্যবস্থা সুচিন্তিতভাবে তৈরি করা হয়েছে। বিশেষ করে দুটি প্রধান ধরনের আবাসন সুবিধা রয়েছে:

১. অন-ক্যাম্পাস হাউজিং: বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্যাম্পাসের ভেতরে থাকার সুবিধা রয়েছে। এটি বেশ সাশ্রয়ী হওয়ায় বাংলাদেশী শিক্ষার্থীদের কাছে খুব জনপ্রিয়। এর ফলে যাতায়াতের সময় ও অর্থ দুটোই সাশ্রয় হয়।

২. অফ-ক্যাম্পাস হাউজিং: যারা কিছুটা বেশি স্বাধীনতা চান, তারা ক্যাম্পাসের বাইরে থাকার ব্যবস্থা বেছে নিতে পারেন। এই ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ শিক্ষার্থীদের উপযুক্ত থাকার জায়গা খুঁজে পেতে সহায়তা করে।

আল আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার সুবিধা

এবার আল আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার সুযোগ-সুবিধাগুলো সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক:

  • এই বিশ্ববিদ্যালয়ে বই, জার্নাল এবং ডিজিটাল উপকরণের জন্য একটি চমৎকার লাইব্রেরি রয়েছে।
  • বিশ্ববিদ্যালয়ের এই লাইব্রেরিটি পড়াশোনা ও গবেষণার জন্য খুবই উপযুক্ত।
  • পুরো বিশ্ববিদ্যালয় আধুনিক প্রযুক্তি ও যন্ত্রপাতি দিয়ে সুসজ্জিত।
  • এখানে বিভিন্ন প্রজেক্টর এবং অডিও-ভিজ্যুয়াল সরঞ্জামও রয়েছে।
  • বিশ্ববিদ্যালয়ে উন্নত মানের গবেষণা হল বিদ্যমান।
  • আল আজহার ইউনিভার্সিটি শিক্ষার্থীদের একাডেমিক ডেটাবেস, ই-বুক এবং অনলাইন জার্নালসহ অসংখ্য অনলাইন রিসোর্স ব্যবহারের সুযোগ দিয়ে থাকে।

সাধারণ প্রশ্ন ও উত্তর (FAQs)

আল আজহারের ছাত্র সংখ্যা কতজন?

আল আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ের মোট শিক্ষার্থী সংখ্যা হলো ২,৬৯,৭৩৩ জন, যার মধ্যে ২৩,৯৫৫ জন হলেন আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী। তবে এই সংখ্যা ভবিষ্যতে আরও বৃদ্ধি পাবে।

আল আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ে মেয়েরা পড়তে পারবে কি?

অনেকের মনেই প্রশ্ন থাকে যে আল আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ে মেয়েরা পড়তে পারবে কিনা, কারণ বেশিরভাগ সময় ছেলেদেরই এখানে পড়তে দেখা যায়। তবে হ্যাঁ, আল আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ে মেয়েরা পড়তে পারবে। মেয়েদের জন্য এখানে আলাদা চিকিৎসা অনুষদ রয়েছে, যেখানে তাদের পড়ার সুযোগ দেওয়া হয়।

আল আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ে অমুসলিমরা পড়তে পারবে কি?

আল আজহার বিশ্ববিদ্যালয় অমুসলিমদের জন্য নয়। এই উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানটিতে শুধুমাত্র মুসলিম শিক্ষার্থীরাই পড়ালেখা করার সুযোগ পায়।

আল আজহার বিশ্ববিদ্যালয় শিয়া নাকি সুন্নি?

আল আজহার বিশ্ববিদ্যালয় হলো মিশরের প্রাচীনতম বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে একটি। এটি সুন্নি ইসলামের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিশ্বজুড়ে পরিচিত।

আল আজহার বিশ্ববিদ্যালয় কে প্রতিষ্ঠা করেন? 

আল আজহার বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন ফাতেমীয় খিলাফতের কমান্ডার জাওহার, যিনি ৯৭০ খ্রিস্টাব্দে এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি স্থাপন করেছিলেন।

লেখকের শেষ মতামত

প্রিয় পাঠক, আশা করি আপনারা আল আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি যোগ্যতা, পড়ার খরচ এবং স্কলারশিপের সুযোগ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানতে পেরেছেন। আপনারা যদি এই বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পরিকল্পনা করেন, তবে অবশ্যই আগে থেকে ভালোভাবে প্রস্তুতি নেবেন। আল আজহার বিশ্ববিদ্যালয় সম্পর্কে আপনার যদি কোনো প্রশ্ন থাকে, তাহলে কমেন্ট বক্সে জানাতে পারেন।

Similar Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *